নিজস্ব প্রতিবেদক
সংবিধান পুনর্লিখন প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, সংবিধানটা লেখা হয়েছিলো একাত্তরের ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে। এই সংবিধান স্বাধীনতার পর থেকে চলে আসছে। এই সংবিধানকে যারা মিস ইউজড করেছে, যারা অপব্যবহার করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।
রোববার (২৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে একটি কমিউনিটি সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, জাতির কাছে প্রশ্ন জাগে, আমারও জাগে আওয়ামী লীগকে আবার ফিরে আসার রাস্তা করে দিচ্ছি? এই যে আজকে বৈষম্যমূলক কথাবার্তা বলা হচ্ছে, এই কিছুক্ষণ আগে আমাদের ছেলে-মেয়েরা যারা নাকি আন্দোলনের স্ফুলিঙ্গ হিসেবে কাজ করেছে ৫ আগস্টে, এককভাবে তারা এই আন্দোলনকে নিজেদের করে নিতে চায়। কিন্তু আপনারা দেখেছেন, আমরাও জানি, আমরাও দেখেছি, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন নিভু নিভু, তখন কিন্তু প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সামনে এগিয়ে আসে, সাধারণ মানুষ সামনে এগিয়ে আসে, আমরা এগিয়ে যাই।
তিনি আরও বলেন, নিশ্চয়ই নেতৃত্বে একজন থাকবে, পেছনে হাজারো লোক থাকবে। কিন্তু এককভাবে কেউ কারো দাবি করা ঠিক না৷এতে কিন্তু জনমনে বিভেদ সৃষ্টি হবে। এই যে, আমাকে কথাটা বলতে হচ্ছে, আমরা এই কথাটা বলতে বাধ্য। কারণ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি, সেটাও সম্মুখভাবে অংশগ্রহণ করেছি। আমার সঙ্গের অনেক সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব মারা গেছে প্রায় ৩০ লক্ষ শহীদ হয়েছে। শহীদের রক্ত দিয়ে লেখা যে সংবিধান, সে সংবিধানকে যখন কবর দেওয়ার কথা বলা হয় তখন কিন্তু আমাদের কষ্ট লাগে।
বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, আমরা তোমাদের সিনিয়র, অগ্রজ হিসেবে কষ্ট পাই, এটা কী করছে? এটা করা কি ঠিক হলো? ঐ সংবিধানে যদি খারাপ কিছু থাকে নিশ্চয় সেটা বাতিলযোগ্য। যদি নতুন কোনো সংবিধান লিখতে হয় তাও তো লিখতে হবে, আগের অমুক সালের সংবিধান বাতিল করে এই সংবিধান জারি করা হলো। সুতরাং এই সংবিধানকে সংশোধন করা যাবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের প্রতি অনুরোধ রেখে তিনি আরও বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভাইদের কাছে অনুরোধ করব, বিষয়গুলো বুঝার চেষ্টা করবেন। ভুল বুঝবেন না। কবর দিয়ে দিবো, মেরে ফেলবো, কেটে ফেলবো এই ধরনের কথাগুলো কিন্তু ফ্যাসিবাদের মুখ থেকে আসে। এগুলো কিন্তু ভালো কথা নয়৷ জাতি তাকিয়ে আছে আপনাদের দিকে। আমরাও তাকিয়ে আছি তোমাদের দিকে। তোমাদের মুখ থেকে এই ধরণের কথা আমি আশা করি না।
সচিবালয়ে আগুন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই যে আগুন, আনসার বিদ্রোহ এ সমস্ত বিষয়গুলো এমনি এমনি হচ্ছে না, কেউ না কেউ উস্কানি দিচ্ছে। তারা সচিবালয়েই বসে আছে। তারা আজকে উপদেষ্টাবৃন্দদের সহযোগী হয়ে আছেন। সবাইকে কিন্তু আমরা চিনি।
ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিক আলম মজনুর সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবীনের সঞ্চালনায় এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আহমেদ, সহ-সমাজ কল্যাণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার প্রমুখ।
Leave a Reply